খুলনার ডিআইজি ও পুলিশ কমিশনার প্রত্যাহার চায় বিএনপি

 খুলনার ডিআইজি ও পুলিশ কমিশনার প্রত্যাহার চায় বিএনপি

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানে সেখানকার ডিআইজি ও পুলিশ কমিশনারকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। দলটি বলেছে, আর তা না হলে নির্বাচন করা দুরূহ হয়ে পড়বে।

গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আজ বুধবার রাতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ দাবি জানান।

এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির ছয়জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনের আগে তাঁরা রুদ্ধদার বৈঠক করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, গাজীপুরে নির্বাচন ইতিমধ্যে স্থগিত হয়ে গেছে, খুলনায় এখনো বহাল আছে। গাজীপুরের জনগণকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করায় মর্মাহত, অন্যদিকে খুলনার মানুষ আশঙ্কায় সঙ্গে ভাবছে, নির্বাচনটা সুষ্ঠু হবে কি না। কারণ নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করার জন্য যা যা দরকার, সরকার সব অপকর্ম করছে। গত রাতে বিএনপির দেড় শ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘খুলনার বিভাগীয় পুলিশ কমিশনার বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা দিচ্ছেন। একদিকে নির্বাচন চলছে, এ সময়ে তাঁদের বিরুদ্ধে নতুন করে নাশকতার মামলা দিয়ে নির্বাচনে বাধার সৃষ্টি করছেন। সে জন্য আমরা জোরের সঙ্গে বলছি, অবিলম্বে ডিআইজি ও পুলিশ কমিশনারকেও প্রত্যাহার করতে হবে। নইলে নির্বাচন করাটা দুরূহ হয়ে পড়বে।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, এইচ টি ইমামের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে বলেছেন, খুলনায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই, তাদের জন্য নাকি সমস্যার তৈরি হচ্ছে। এ জন্য তারা অভিযুক্ত করেছে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে, হাস্যকর কথা।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘সরকার পুলিশ দিয়ে আমাদের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করাচ্ছে, হয়রানি করছে, হুমকি দিচ্ছে, আমাদের কাউন্সিলর প্রার্থীদের ডেকে নিয়ে বলছে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইতে পারবা না। আর তাঁরা বলছেন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। আজকে এই নির্বাচনকে সম্পূর্ণ প্রহসনে পরিণত করা হয়েছে। এ ধরনের নির্বাচনে করার অর্থ কী, আমরা জানি না।’

নির্বাচন নির্বাচন খেলারই দরকার কী, প্রশ্ন ফখরুলের
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘গাজীপুরে হঠাৎ করেই নির্বাচন বন্ধ হয়ে গেছে। খুলনায় বলছে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই, তাহলে নির্বাচনটা ঘোষণার দরকার কী, নির্বাচন নির্বাচন খেলারই বা দরকার কী? আওয়ামী লীগ এসব বলছে, তারা একটা ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে চায়। নির্বাচন কমিশন সঙ্গে নিয়ে সরকার পরিকল্পিতভাবে এই নির্বাচন স্থগিত করার নীলনকশা করছে। খুলনায় যদি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়, তাহলে আমরা বিপুল ভোটে জয়ী হব।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদলের আবেদনের ভিত্তিতে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে তদারকির জন্য ঢাকা থেকে একজন কর্মকর্তাকে পাঠানোর সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এর আগে ডিআইজিকে দিয়ে একটা সমন্বয় কমিটি করা হয়েছিল। এখন আরেকজন কর্মকর্তাকে পাঠানো হচ্ছে তদারকির জন্য। এটা সম্পূর্ণ নির্বাচনী বিধি ও সংবিধানবিরোধী। এটা কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য নয়।

নির্বাচন কমিশন বলেছে তারা আইন মেনেই এটা করেছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব বলেন, নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভুলভাবে এ দাবি করছে। এই দাবি সঠিক নয়। তিনি বলেন, ‘আজকে নির্বাচন কমিশন বারবার বলছে যে তারা একটা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে চায়। কিন্তু গাজীপুর ও খুলনায় আমাদের যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, তাদের এ নির্বাচন কমিশনের আসলে কোনো যোগ্যতা নেই সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার।’ তিনি বলেন, এই নির্বাচন কমিশন একে তো নিরপেক্ষ নয়, তারা আওয়ামী লীগের প্রতি অনুগত। তার ওপর নির্বাচন সুষ্ঠু করার যে যোগ্যতা থাকার দরকার, সে যোগ্যতাই নেই।

মঞ্জু শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে আছেন, থাকবেন
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তারপরও আমরা নির্বাচনে আছি এ জন্য যে নির্বাচনকে আমরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের অংশ হিসেবে নিয়েছি। আমাদের প্রার্থী মঞ্জু বলেছেন তিনি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে আছেন, থাকবেন। যদিও আমাদের অ্যাকটিভ নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।’ বিএনপির মহাসচিব জানান, আগামীকাল বৃহস্পতিবার নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে বিএনপির একটা প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনে যাবেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমির উদ্দিন সরকার, মাহবুবুর রহমান, নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*