বিএনপির সাবেক এমপি মোমিনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রস্তুত

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত হত্যা ও গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে চার দলীয় জোট সরকারের আমলে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি রাজশাহী বিভাগীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বগুড়ার সাবেক এমপি আব্দুল মোমিন তালুকদার ওরফে খোকার বিরুদ্ধে তদন্ত চূড়ান্ত করেছে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ধানমন্ডির আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান।

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযুক্ত আবদুল মোমেন বর্তমান রাজশাহী বিভাগীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পদক পদে রয়েছেন বলেও জানান তিনি। তার বিরুদ্ধে ৭১ সালের বিভিন্ন স্থানে ১৯ জনকে হত্যাকরাসহ লুণ্ঠন ও অগ্নি-সংযোগসহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান ছাড়াও এ সময় তদন্ত সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এম. সানাউল হক ও মামলার (আইও) তদন্ত কর্মকর্তা আলতাফুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান জানান, ৭১ সালে আটক, নির্যাতন, অপহরণ, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগসহ ১৯ জনকে হত্যার অভিযোগে বগুড়ার আদমদিঘী থানার কালাইকুড়ি গ্রামের আব্দুল মজিদ তালুকদারের ছেলে আব্দুল মোমিন তালুকদার ওরফে খোকার (৬৬) বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগে তদন্ত শেষ করা হয়েছে। শিগগিরই প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন জমা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংস্থার পক্ষ থেকে।

tri

তার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদনে তিনটি অভিযোগে আনা হয়েছে, প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে,

১৯৭১ সালের ২২ এপ্রিল দুপুর ১২টার দিকে আসামি আব্দুল মোমিন তালুকদারসহ ৫ থেকে ৬ জন স্বাধীনতা বিরোধী ও ২০ জন পাকিস্তানি সেনা সদস্যকে নিয়ে বগুড়ার আদমদিঘী থানার কলসা বাজার, রথবাড়ি এবং তিয়রপাড়ার মুক্তিযোদ্ধা এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে হত্যা করতে অপারেশন করে। ওইদিন আসামি নিজে তার হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে কলসা গ্রামের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ইসলাম উদ্দিন প্রামানিকসহ হিন্দু-মুসলিম মিলিয়ে ১০ জনকে গুলি করে হত্যা করে।

দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৪ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবরে অভিযান চালিয়ে একই থানার কাশিমালা গ্রামে হামলা চালিয়ে ১৬ থেকে ১৭টি বাড়ি লুণ্ঠন করে এবং সেদিন ৫ জনকে গুলি করে হত্যা করে।

তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৫ অক্টোবর রাতে আব্দুল মোমিন তালুকদারসহ রাজাকার ও পাকিস্তানি বাহিনী নিয়ে আদমদিঘী থানার তালশন গ্রামের অভিযান চালিয়ে চার জনকে হত্যা করেছে বলে তদন্ত কর্মকর্তা তার তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন।

আসামি আব্দুল মোমিন তালুকদারের রাজনৈতিক পরিচয়:

জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এম সানাউল হক জানান, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় আসামি আব্দুল মোমিন তালুকদার মুসলিম লীগের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। পাকিস্তান দখলদার বাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য সশস্ত্র রাজাকার বাহিনীতে যোগদান করে। আদমদিঘী থানার রাজাকার কমান্ডার হিসেবে অন্যান্য রাজাকার ও পাকিস্তান বাহিনীকে সহযোগিতা করেন।

দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৮ সালে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। পরে আদমদিঘী উপজেলা বিএনপির সভাপতি হন। বর্তমানে বগুড়া জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এবং রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। বিগত চার দলীয় জোট সরকারের আমলে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন। তিনি ২০০১ ও ২০০৮ সালে দুই বার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি পলাতক আছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*