চট্টগ্রামের ‘রিচ কিডস গ্রুপ’; তাসফিয়ার মৃত্যু : কিশোরদের ফেসবুক আসক্তির খুনি চেহারা

 

ডা. সুরজিত বালা
_______________________________

ফেসবুকে কিশোর খুনিদের নানা দৌরাত্ম্য নিয়ে লেখা মাঝে মধ্যেই পড়ি।
ঢাকার উত্তরা ভয়ঙ্কর সব খুনি গ্রুপের তৎপরতা নিয়ে কমবেশী সবাই জানি। কিন্তু সেই কিশোর খুনিদের দৌরাত্ম ফেসবুকের মাধ্যমে যে চট্টগ্রাম সহ সারা দেশে ছোবল মারছে সেটা কল্পনাও করা যায় নি। মিডিয়ায় জানলাম, চট্টগ্রামের চট্টগ্রামের ‘রিচ কিডস গ্রুপ’;রীতিমত এক আতঙ্ক। তাদের হাতে আপনার আমার কিশোরী কন্যাকে তুলে দিলে তারা লাশের ঠিকানা লাগিয়ে দেয়ার দক্ষতা অর্জন করছে।
অামাদের সমাজ রীতিমত ভেঙে পড়ছে। অনেকে এজন্য ফেসবুক; ক্রাইম পেট্রল, অপরাধ সিরিয়ালগুলোকে দায়ী করে নিজেদের ভয়ঙ্কর ভবিষ্যতকে আড়াল করার চেষ্টা করছি।
ঠান্ডা মাথায় ভাবলে দেখা যাবে , এসব বিচিত্র ক্রাইমের সঙ্গে ক্রাইম পেট্রলের কোন সম্পর্ক নাই। বরং ক্রাইম পেট্রলের লোকজন খবর পেলে চ্ট্টগ্রাম ও ঢাকার উত্তরার কিশোরদের আরেকটি ক্রাইম পেট্রল সতর্ক বানিয়ে সবাইকে সতর্ক করবে।
আমাদের ঢাকার মিডিয়ায় এসব নিয়ে কোন সতর্কতামূলক অনুষ্ঠানই নেই। এখানে টক শোর সবজান্তা সমশেররা কেবল বড় বড় বানী দিয়েই খালাস।

আর চ্ট্টগ্রামসহ উত্তরার ধনাঢ্য ‘রিচ কিডস গ্রুপ’সদস্যরা কখনও এসব সিরিয়াল দেখে না। সতর্কও হয় না। ওরা নিজেরাই ক্রাইম স্টাইল আবিস্কার করে। আসুন মিডিয়া থেকে জানি , চ্ট্টগ্রামে কি হয়েছে।

পত্রিকান্তরে অভিযোগ; ধনাঢ্য সওদাগর সন্তান
এক স্কুল ছাত্র ও তাসফিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ভালোভাবে নেয়নি তাসফিয়ার পরিবার। তাই ছেলেটিকে ডেকে শাসায় তারা। আর এটাকে ভালোভাবে নেয়নি সে। তাই তাসপিয়াকে কৌশলে সে ‘রিচ কিডস গ্রুপ’র হাতে তুলে দেয়। এরপর তার লাশ চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সী’বিচে পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ এসব তথ্য জেনেছে বলে দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ আশা করছে, ওই গ্রুপের চারজন এবং ‘বড়’ দুই ভাইকে আটক করতে পারলেই হত্যার রহস্য উম্মোচন করা সহজ হবে।

কি এই ‘রিচ কিডস গ্রুপ
_________________________

‘রিচ কিডস গ্রুপ’ চট্টগ্রামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকভিত্তিক একটি গ্রুপ। আর এই গ্রুপের প্রধান হচ্ছে তাসপিয়ার প্রেমিক ধনাঢ্য ব্যবসায়ীর ছেলে এক স্কুলছাত্র ।

এই গ্রুপে আরো রয়েছে নগরের ইংলিশ মিডিয়ামে অধ্যয়নরত কোটিপতি বাবার সন্তানরা।

এই গ্রুপে ঢুকে পড়ায় রহস্যময় মৃত্যুর শিকার হল ব্যবসায়ী কন্যা তাসপিয়া। তার বাবা ইনস্টাগ্রাম বন্ধ করে দিয়েও কন্যাকে বাঁচাতে পারে নি।
আসলে সমস্যা তো ইনস্টাগ্রামে নয়। সমস্যা আমাদের সামাজিক মূল্যবোধে। আমরা মূল্যবোধ; কৃষ্টি সংস্কৃতি সব হারিয়ে ফেলছি।

কেমন মূল্যবোধ চর্চা হচ্ছিল ! মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নগরীর গোলপাহাড় মোড়ে চায়না গ্রিল নামে চাইনিজ রেস্টুরেন্টে তাসপিয়াকে নিয়ে প্রেমের এক মাস পূর্তি উৎসব করে তার কিশোর প্রেমিক। এরপর তাসপিয়াকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে দেয় সে।

যাওয়ার সময় প্রেমিককে জানিয়ে যায় তাসপিয়া; নিজাম রোডের ৫নং সড়কে তার এক বান্ধবীর বাসায় জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যাবে। তারপরই মেয়েটিকে আবিস্কার করা হয় পতেঙ্গায় লাশ হিসেবে।
অভিযোগ গুরুতর যে, মেয়ের সাথে সম্পর্ক মেনে না নেয়া এবং শাসানোর ‘প্রতিশোধ’ নিতেই প্রেমিক তাসপিয়াকে তার গ্রুপের সদস্যদের হাতে তুলে দেয়।
ভাবুন একবার কি ভয়ঙ্কর এই ‘রিচ কিডস গ্রুপ।

ওই সূত্রটি জানায়, তাসপিয়াকে যে সিএনজিচালিত অটোরিকশাতে তুলে দেয় প্রেমিক , সেই অটোরিকশার পেছনেই ছিল দুটি মোটরসাইকেলে চার যুবক। এ চারজন যুবক ‘রিচ কিডস গ্রুপ’র সদস্য।

প্রেমিকটি নগরীর সানশাইন গ্রামার স্কুল এন্ড কলেজের দশম শ্রেণিতে পড়তো। একই স্কুলের নবম শ্রেণিতে পড়তো তাসপিয়া আমিন। দুইজনের ছিল বেশ জানাশোনা।

তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রেমিককে তার বাবা ভর্তি করে দেন বাংলাদেশ অ্যালিমেন্টারি স্কুলে। ভিন্ন স্কুলে পড়লেও বন্ধুদের মাধ্যমে তাসপিয়ার ফেসবুক আইডি সংগ্রহ করে যোগাযোগ রক্ষা করতে থাকে সে।

এই যদি হয় বাস্তবতা ; তবে মুক্তি কোথায় । এ ব্যাপারেমনোবিজ্ঞানীরাই ভাল বলতে পারবেন।

____________________________
ডা. সুরজিত বালা ; চট্টগ্রাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*