হাসপাতালে দালাল নির্মূলের নামে টাকা দাবি

নওগাঁ সদর হাসপাতালে দালাল নির্মূলের নামে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ হাসপাতালটিতে দীর্ঘ ১২-১৩ বছর থেকে যারা বিভিন্নভাবে ডাক্তার, আয়া, সেবিকাদের সহযোগিতা করে আসছিলেন তাদেরকে বের করে দিয়ে টাকার বিনিময়ে নতুন লোক নেয়া হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের আউটডোরে রোগীদের সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণ, আয়াদের সহযোগিতা, হাসপাতালের মেঝে পরিষ্কার, অপারেশন কক্ষে ডাক্তারদের চা-নাস্তা দেয়াসহ বিভিন্ন কাজ করতেন। তারা বৈধভাবে নিয়োগ বা বেতনভুক্ত না হওয়ায় মাস শেষে ডাক্তার ও আয়াদের কাছ টাকা পেতেন। এক যুগের অধিক সময় ধরে হাসপাতালটিতে প্রায় ৪০ জন নারী-পুরুষ এভাবে কাজ করে আসছেন।

Naogaon-Hospital-Pic_02

এ বি সিদ্দিকী, মহাদেবপুর প্রতিনিধি: এক যুগ ধরে হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে কাজ করতেন সদর উপজেলার চকজাফরাবাদ গ্রামের হাওয়া বিবি। স্বামী হারা হাওয়া বিবি এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে হাতসাপাতালে কাজ করেই সংসার চালাতেন। তিনি বলেন, ‘হঠাৎ করেই তত্ত্বাবধায়ক ম্যাডাম আমাদের হাসপাতালে আসতে নিষেধ করেছেন। এখন সংসার চালানো কষ্ট হয়ে গেছে। হাসপাতালে আসলে পুলিশের ভয় দেখানো হয়।’

১৩ বছর থেকে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে কাজ করেন নাছিমা বেগম। তিনি বলেন, ‘ডাক্তারদের চা, নাস্তা ও আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র নেয়া-আনার কাজ করতাম। মাস শেষে প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা পেতাম। হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়ায় অনেকটাই অসহায় হয়ে পড়েছি।’

তবে তাকে আবারও ফিরিয়ে নেয়া হবে বলে হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক ডা. রওশন আরা খানম মোটা অঙ্কের টাকা চেয়েছেন বলে জানান তিনি। বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক ম্যাডাম হাসপাতালে আবার ফিরিয়ে নেবে বলে আমার কাছে আড়াই লাখ টাকা চেয়েছেন। অফিসে দেখা করতে বলেছেন। আমি গরীব মানুষ এত টাকা কোথায় পাব।’

এছাড়া নার্গিস, পারভিন, রেশমি, বাপ্পি হাসান, রশিদাসহ আরও অনেকে বলেন, ‘আমাদের বের করে দিয়ে আবার টাকার বিনিময়ে নতুন করে কয়েকজনকে নেয়ার পায়তারা চলছে। তত্ত্বাবধায়ক ম্যাডাম জোর পূর্বক তার ক্লিনিকে রোগী নিয়ে যেতে বলতেন। এ জন্য হয়তো আমাদের বাদ দিয়েছেন।’

Naogaon-Hospital-Pic_02

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মুনির আলীর আকন্দ বলেন, ঘটনা তো অনেক কিছুই ঘটে থাকে। কিন্তু সবগুলো তো আর সত্য হয় না।

এ বিষয়ে নওগাঁ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রওশন আরা খানম বলেন, হাসপাতালের সকল ডাক্তাররা বসে সিদ্ধান্তের পর তাদের (দালার) চলে যেতে বলা হয়েছে। এরা সবাই দালাল। রোগীদের বাহিরের ক্লিনিকে নিয়ে গিয়ে অপ্রয়োজনীয় অতিরিক্ত পরীক্ষা করে টাকা নষ্ট করে।

তিনি আরও বলেন, এতদিন যারা দায়িত্বে ছিলেন তারা হয়তো দালালদের বের করে দিতে পারেনি। কিন্তু আমি আসার পর তাদের বের করে দিয়েছি। এখন কোন সমস্যা হচ্ছে না। পর্যাপ্ত লোকবল আছে।

তবে হাসপাতাল থেকে রোগীদের ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া এবং দালালদের কাছ থেকে নতুন করে টাকার বিনিময়ে কাজ করতে দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*