ঐক্যবদ্ধ জীবন-যাপন করবেন যে কারণে

একতাই বল। কুরআনে পাকে আল্লাহ তাআলা একতাবদ্ধভাবে থাকার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘তোমরা সবাই আল্লাহর রুজ্জুকে শক্তভাবে ধারণ কর। আর তোমরা পরস্পরে বিচ্ছিন্ন হইওনা।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১০৩)

একতাবদ্ধ জীবন-যাপন করা ইসলামের মূল শিক্ষার একটি। একাকি জীবন-যাপনে রয়েছে নানাবিধ ঝুঁকি ও বিপদ। তা হতে পারে দুনিয়াবি কাজের ঝুঁকি আবার হতে পারে পরকালের আমলি কাজের জন্যও ঝুঁকি।

হাদিসে পাকে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জামায়াতবদ্ধ জীবনে গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। একতাবদ্ধ জীবন-যাপনকারী ব্যক্তি একাকি জীবন-যাপনকারীর ব্যক্তির তুলনায় অনেক গুণ বেশি নিরাপদ।

হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘মেষপালের নেকড়ে বাঘের মতো শয়তান মানুষের জন্য নেকড়ে বাঘস্বরূপ। যে মেষপালের মধ্য থেকে একটি মেষ দল থেকে আলাদা থাকে অথবা খাদ্যের সন্ধানে একাকি দূরে চলে যায় অথবা যে মেষ অলসতাবশত দল ছেড়ে এক প্রান্তে পড়ে থাকে, সেটিকে নেকড়ে বাঘ ওঠিয়ে নিয়ে যায়। সাবধান! তোমরা কখনো জামায়াত ছেড়ে একাকি দুর্গম পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ পথে চলবে না। সুতরাং সব সময় জামায়াত তথা মুসলিম জনসাধারণের সঙ্গে থাকবে। (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত)

হাদিসের আলোকে মুসলিম উম্মাহ জামায়াতবদ্ধ জীবন যাপন করবে। তা যে কোনো জনপদেই হোক না কেন। এমনকি যদি কোনো সমাজে বা জনপদে মাত্র ৩জন লোকও থাকে; তবে তারা যেন একজনকে নেতা বানিয়ে পরামর্শের আলোকে জীবন পরিচালনা করে।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘৩জন লোকও যখন জনমানবহীন মরুভূমিতে থাকবে তখন তাদের একজনকে নেতা নিযুক্ত করে তার অনুসরণ না করে বিচ্ছিন্ন থাকা বৈধ নয়।’ (মুসনাদে আহমদ)

অন্য হাদিসে এসেছে সফরের সময়ও একাধিক ব্যক্তির দল হলে একজনকে নেতা বানিয়ে জামায়াতবদ্ধভাবে সফর করা।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘৩জন লোক যখন কোথাও সফরের উদ্দেশ্যে বের হবে তখন অবশ্যই একজনকে নেতা বানিয়ে নেবে।’ (আবু দাউদ)

উল্লেখিত কুরআন ও হাদিসের আলোকে বঝা গেল, জামায়াতবদ্ধ জীবন প্রত্যেক মুসলমানের জন্য একান্ত আবশ্যক। সমাজে শান্তি, নিরাপত্তা ও ঝুঁকিমুক্ত থাকতে একতাবদ্ধ জীবনে বিকল্প নেই।

পরিশেষে…
একতাবদ্ধ জীবনের বাহিরে অবস্থানকারী ব্যক্তি সম্পর্কে প্রিয়নবির একটি সতর্কবাণী তুলে ধরতে চাই। প্রিয়নবি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি একতাবদ্ধ জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আনুগত্যের হাত গুটিয়ে নিলো; আর এ অবস্থায় যদি সে মৃত্যুবরণ করে; তবে তা হবে জাহেলিয়াতের মৃত্যু।’

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে একতাবদ্ধ জীবন-যাপন করতে কুরআন ও সুন্নাহর ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*