ভারতের হারের কারণ তাহলে এই

ভারতের হারের কারণ তাহলে এই

ভুবনেশ্বরের সেই ডেলিভারিটির সময় স্লিপে হাঁটুতে ভর করে দাঁড়িয়ে আছেন কোহলি (দ্বিতীয় স্লিপ) ও ধাওয়ান (তৃতীয় স্লিপ)। ছবি: ক্রিকইনফোটেস্ট সিরিজ খোয়া গেছে আগেই। জোহানেসবার্গে আজ শুরু হচ্ছে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট। ধবলধোলাই এড়াতে ভারতের জন্য এ ম্যাচে হার এড়ানোর বিকল্প নেই। শেষ টেস্টে তাই ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিংয়ে সতীর্থদের ‘১২০ শতাংশ’ নিংড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিরাট কোহলি। ভারতের অধিনায়কের দাবি, হারলেও দুই ম্যাচেই লড়েছে তাঁর দল। কিন্তু স্লিপে দাঁড়িয়ে ভারতের ফিল্ডাররা যে ভুলে যাচ্ছেন ক্রিকেটের সেই আপ্তবাক্যটি, ‘ক্যাচ মিস তো ম্যাচ মিস’!

কেপটাউনে প্রথম টেস্টে প্রথম ইনিংসে ২৮৬ রান করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ৬ উইকেটে ২০২ রানে কেশব মহারাজকে তৃতীয় স্লিপে ‘জীবন’ উপহার দেন শিখর ধাওয়ান। তখনো রানের খাতা না খুলতে না পারা মহারাজ শেষ পর্যন্ত ৩৫ রান করেছিলেন। এ ছাড়া সপ্তম উইকেটে ১৯ এবং অষ্টম উইকেটে ৩৭ রানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। ভারত সে টেস্ট হেরেছে ৭২ রানে। কিন্তু মহারাজকে তখন স্লিপে তালুবন্দী করা গেলে হয়তো সেটা প্রভাব ফেলত ম্যাচের ফলে।

বল ব্যাটের কানায় লাগার সময়েও হাঁটুতে হাত দিয়ে ভর করে দাঁড়িয়ে কোহলি। ছবি: ক্রিকইনফোবল ব্যাটের কানায় লাগার সময়েও হাঁটুতে হাত দিয়ে ভর করে দাঁড়িয়ে কোহলি। ছবি: ক্রিকইনফোস্লিপে ভারতীয় ফিল্ডারদের ক্যাচ মিসের কৌশলগত কারণ ব্যাখ্যা করেছে ক্রিকইনফো। সে ওভারে ভুবনেশ্বর বল ছাড়ার সময় দ্বিতীয় স্লিপে কোহলি এবং তৃতীয় স্লিপে ধাওয়ান—দুজনেই হাঁটুর ওপর হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁদের দুই পায়ের মাঝেও বেশ ফাঁক ছিল। হাঁটুর মাঝে হাত দুটো ক্যাচ নেওয়ার আদলে প্রস্তুত ছিলেন শুধু প্রথম স্লিপে দাঁড়ানো চেতেশ্বর পূজারা। মহারাজের ব্যাটের কানা ছুঁয়ে বলটা বেরিয়ে আসার সময়েও ঠিক একইভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন কোহলি-ধাওয়ান। পরিণতিতে বলের লাইন বুঝতে না পেরে ক্যাচ ছাড়েন ধাওয়ান।

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে দীর্ঘদিন স্লিপে ফিল্ডিং করেছেন সাবেক প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান ড্যারিল কালিনান। তাঁর মতে, ধাওয়ানের হাত থেকে সেই ক্যাচটা ফসকে গেছে দুটি কারণে—১. দুই পায়ের মাঝে বেশি ফাঁক। ২. হাঁটুর ওপরে হাত। কালিনানের ভাষ্য, স্লিপ ফিল্ডারের ‘দুই পায়ের মাঝে বেশি ফাঁক থাকলে বলের লাইন বোঝা কঠিন। গোলরক্ষকেরা কিন্তু পেনাল্টি ঠেকানোর সময় কখনোই এভাবে দাঁড়ান না। একটু এগিয়ে পা দুটো একসঙ্গে করে দাঁড়ান, তাতে ডানে-বামে ঝাঁপ দিয়ে বল ধরাটা সহজ হয়। স্লিপে বলের গতি বোঝাটা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাটের কানা ছোঁয়ার সময় নয়, বোলারের ডেলিভারির সময় থেকেই প্রস্তুত হতে হয়।’

বলের লাইন বুঝতে না পারায় ক্যাচটা নিতে পারেননি ধাওয়ান। ছবি: ক্রিকইনফোবলের লাইন বুঝতে না পারায় ক্যাচটা নিতে পারেননি ধাওয়ান। ছবি: ক্রিকইনফোকেপটাউন টেস্টে কোহলি ও ধাওয়ান স্লিপে সব সময় হাঁটুর ওপর হাত ভর করে দাঁড়িয়েছেন বলে মন্তব্য করেন কালিনান। এতে মাথাটা একটু ঝুঁকে থাকে, ফলে ব্যাটের কানায় লেগে সেকেন্ডেরও কম সময়ের ব্যবধানে ছুটে আসা বল ধরা ভীষণ কঠিন হয়। ক্যারিয়ারে ৭০ টেস্টে ৬৭ ক্যাচ নেওয়া কালিনান উইকেটরক্ষকদের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘উইকেটরক্ষকেরা কিন্তু ওভাবে দাঁড়ান না। মার্ক ওয়াহ ও মার্ক টেলর এ ক্ষেত্রে উদাহরণ। বোলার রান-আপ শুরুর সময় থেকেই তাঁরা উইকেটরক্ষকের পজিশনে দাঁড়িয়ে যেতেন।’

পেসারদের বোলিংয়ে গত চার বছরে স্লিপ ও গালিতে মাত্র ৪২ শতাংশ ক্যাচ নিতে পেরেছে ভারত। এ পরিসংখ্যানই বলে দেয়, পেস বোলিংয়ে ভারতে সহজাত স্লিপ ফিল্ডারের অভাব প্রকট। আবার সেঞ্চুরিয়নে স্পিনারদের বোলিংয়েও ক্যাচ ছেড়েছেন ভারতীয় ফিল্ডাররা। জোহানেসবার্গেও এই ধারা চললে ভারতের কপালে হয়তো ধবলধোলাই লেখা আছে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*