জারের পানিতে মারাত্মক ক্ষতিকর জীবাণু

জারের পানিতে মারাত্মক ক্ষতিকর জীবাণু

জীবাণুযুক্ত ও মানহীন জারের পানিতে সয়লাব হয়ে গেছে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকা। দেদারসে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এসব দূষিত পানির জার। আর এ পানি পান করে প্রতিদিন নানা পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। তাই মানহীন জারের পানি বিক্রি বন্ধে গতকাল সোমবার রাজধানীর পল্টন ও মতিঝিল এলাকায় অভিযান চালিয়েছে বিএসটিআই। অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন বিএসটিআইয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমা সিদ্দিকা বেগম। বিকাল ৫টা পর্যন্ত ৫৫টি প্রতিষ্ঠানের সহস্রাধিক পানির জার জব্দ করার পর তা ধংস করা হয়। বিভিন্ন অফিসে পানির জার সরবরাহে নিয়োজিত ২৫টি ভ্যানও জব্দ করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বিএসটিআইয়ের সহকারী পরিচালক আরাফাত হোসেন সরকার জানান, ৫৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কেবল ৫টি প্রতিষ্ঠান বিএসটিআইযের অনুমোদন নিয়ে ব্যবসা করছে। কিন্তু তারাও সঠিকভাবে পানি পরিশোধন করছে না।
রাজধানীর বাসাবাড়ি, অফিস-আদালতে সরবরাহ করা ৯৭ ভাগ জারের পানিতে ক্ষতিকর মাত্রায় মানুষ ও প্রাণীর মলের জীবাণু কলিফর্ম পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) একদল গবেষক। শাক-সবজিতে কীটনাশক দূষণ, বোতলজাত ও জার পানিতে বিদ্যমান খনিজ উপাদানের মাত্রা ও গুণাগুণ নির্ণয়ে গবেষণা করতে গিয়ে এমন ভীতিকর তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছেন কাউন্সিলের পুষ্টি বিভাগের পরিচালক ড. মনিরুল ইসলাম।
জানা গেছে, জারে ভরা পানি গবেষণায় ২৫০টি নমুনা সংগ্রহ করেন গবেষকরা। বিশেষ করে ঢাকার ফার্মগেট, কাওরান বাজার, এলিফ্যান্ট রোড, নিউমার্কেট, চকবাজার, সদরঘাট, কেরানীগঞ্জ, যাত্রাবাড়ি, মতিঝিল, বাসাবো, মালিবাগ, রামপুরা, মহাখালী, গুলশান, বনানী, উত্তরা, এয়ারপোর্ট, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, গাবতলী, আমিনবাজার, আশুলিয়া ও সাভার এলাকা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, সংগ্রহ করা নমুনাগুলোতে টোটাল কলিফর্মের ক্ষেত্রে প্রতি ১০০ মিলিলিটার পানিতে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মাত্রা পাওয়া গেছে যথাক্রমে ১৭ ও ১৬০০ এমপিএন (মোস্ট প্রবাবল নম্বর) এবং ফেকাল কলিফর্মের ক্ষেত্রে প্রতি ১০০ মিলিলিটার পানিতে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মাত্রা ছিল যথাক্রমে ১১ ও ২৪০ এমপিএন। এলিফ্যান্ট রোড, চকবাজার, বাসাবো, গুলশান, বনানী থেকে পানির নমুনায় উল্লেখযোগ্য মাত্রায় টোটাল কলিফর্ম ও ফেকাল কলিফর্মের উপস্থিতি পাওয়া যায়। সদরঘাট এলাকার নমুনা সবচেয়ে দূষণযুক্ত নির্দেশ করে, যেখানে সর্বোচ্চ টোটাল কলিফর্ম ও ফেকাল কলিফর্মের উপস্থিতির পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ১৬০০ ও ২৪০ এমপিএন।
দেশের প্রখ্যাত চিকিত্সাবিদ অধ্যাপক ডা. এম মুজিবুল হক ইত্তেফাককে বলেন, দূষিত পানি স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এই পানি পান করার ফলে ডায়রিয়া, আমাশয়, জন্ডিস, লিভার সিরোসিসসহ নানা মারাত্মক অসুখ দেহে বাসা বাধতে পারে। বিশেষ করে শিশু মৃত্যুর অন্যতম কারণ এই দূষিত পানি। তিনি যে কোনো মূল্যে এই দূষিত পানির রমরমা বাণিজ্য বন্ধের দাবি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*