প্রধান বিচারপতি নিয়োগ নিয়ে রিটের শুনানি ২৮ জানুয়ারি

প্রধান বিচারপতি নিয়োগ নিয়ে রিটের শুনানি ২৮ জানুয়ারি

প্রধান বিচারপতির শুন্য পদে নিয়োগ এবং আইনজীবীদের মধ্যে থেকে আপিল বিভাগে সরাসরি বিচারপতি নিয়োগের নির্দেশনা চেয়ে করা রিট আবেদনের শুনানি পিছিয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে আগামি ২৮ জানুয়ারি শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এই দিন ধার্য করেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে সময় চেয়ে আবেদন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। অন্যদিকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ সংক্রান্ত আবেদনের পক্ষে ছিলেন রিটকারী আইনজীবী ইউনুছ আলী আলী আকন্দ নিজেই।

পরে ইউনুছ আলী সাংবাদিকদের বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল শুনানির বিষয়ে প্রস্তুতির জন্য সাত দিনের সময় চেয়ে আবেদন করেছিলেন। আদালত আগামী রোববার বিষয়টি শুনানির জন্য ধার্য করেছেন।

রিট দায়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে কারও ১০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকলে তিনি সুপ্রীম কোর্টে বিচারক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু ১৯৭২ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত আইনজীবীদের মধ্য থেকে আপিল বিভাগে সরাসরি কোনো বিচারক বা প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হয়নি। অথচ হাইকোর্ট বিভাগ থেকেই আপিল বিভাগে বিচারক নিয়োগ দিতে হবে কিংবা পদোন্নতি দিয়ে আপিলে নিয়ে যেতে হবে- এমন কোন বিধানও আমাদের সংবিধানে নেই। তা ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে প্রধান বিচারপতি পদও শুন্য রয়েছে। এ জন্য দুটো বিষয়কে মিলয়ে সাংবিধানিক বিষয়ে এ রিটটি করা হয়েছে।

গত ৩ জানুয়ারি হাইকোর্টের সংশ্নিষ্ট শাখায় প্রধান বিচারপতির শুন্য পদে নিয়োগ এবং আইনজীবীদের মধ্যে থেকে আপিল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগের নির্দেশনা চেয়ে রিটটি দায়ের করা হয়। ইউনুস আলী আকন্দ এ রিটটি করেন। রিটে প্রধান বিচারপতির পদ শুন্য থাকা এবং নতুন প্রধান বিচারপতি নিয়োগ না দেওয়া কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারির নির্দেশনা চাওয়া হয়। পাশাপাশি আইনজীবীদের মধ্যে থেকে সরাসরি আপিল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগ করা কেন হবে না, সে বিষয়েও রুল জারির জন্য বলা হয়েছিল।

পরে ওই রিট আবেদনটি হাইকোর্টের চারটি বেঞ্চে থেকে শুনানি গ্রহণ না করে ফেরত দেওয়া হলে গত বৃহস্পতিবার বিচারপতি জিনাত আরার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ তা গ্রহণ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার ওই বেঞ্চে রিটটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় অর্ন্তভুক্ত হয়। এরপর শুনানি শুরু হলে রাষ্ট্রপক্ষে প্রস্তুতির জন্য সাত দিন সময় চেয়ে আবেদন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

সরকারের সঙ্গে টানাপড়েনের মধ্যে গত ১০ নভেম্বর প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা পদত্যাগ করেন। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্‌হাব মিঞা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*