সম্ভাব্য চার মেয়র প্রার্থী যা চান

সম্ভাব্য চার মেয়র প্রার্থী যা চান

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়েছে। তফসিল অনুসারে উত্তর ও দক্ষিণ সিটিতে নতুন যুক্ত হওয়া ৩৬টি ওয়ার্ডেও প্রথমবারের মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ অবস্থায় সম্ভাব্য চার মেয়র পদপ্রার্থীর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া নিয়েছে প্রথম আলো। মামুনুর রশীদ ও সামছুর রহমানের সঙ্গে তাঁদের আলাপচারিতায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে এসেছে

আতিকুল ইসলামআতিকুল ইসলামমানুষের মধ্যে ভোটের আমেজ দেখতে পাচ্ছি

জনগণের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি সাড়া পাচ্ছি। আপামর মানুষের মধ্যে নির্বাচনের একটা আমেজ দেখতে পাচ্ছি। স্বতঃস্ফূর্তভাবে সবাই এগিয়ে আসছেন। আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা বলছেন। সবাই ভালো কিছু আশা করছেন।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়েছে। এখন আওয়ামী লীগ যদি মনোনয়ন দেয় এবং রাজধানীবাসী যদি ভোট দিয়ে আমাকে মেয়র নির্বাচিত করেন, তাহলে আধুনিক ঢাকা গড়ব। ঢাকা হবে যানজটমুক্ত, মাদকমুক্ত এবং স্মার্ট নগর। রাজধানীর সব মাঠ, পার্ক দখলমুক্ত করা হবে। সব এলাকার মানুষ এটাই চাইছেন।

কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে লোকজনের সঙ্গে মতবিনিময় করে তাঁদের চাওয়াগুলো জানছি। নিজেকেও তুলে ধরছি। আমার অবস্থান যাচাই করছি। যত পারি তত মানুষের কাছে যাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

অনেকেই আমাকে প্রশ্ন করেছেন, আমি কীভাবে মেয়র হিসেবে কাজ করব? তাঁদের কথার জবাবে বলতে চাই, সোনার চামচ মুখে নিয়ে আমি আসিনি। ৪৮টি মেশিন নিয়ে গার্মেন্টস শুরু করেছি। কাজ করতেন ১০০ শ্রমিক। এখন আমার ফ্যাক্টরিতে ১৯ হাজার শ্রমিক কাজ করছেন। সবাইকে নিয়ে কীভাবে কাজ করতে হয় তা আমি বছরের পর বছর ধরে শিখেছি।

ডিএনসিসির প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা আমার। আনিস ভাই আর আমি একসঙ্গে কাজ করেছি বিজিএমইএতে। আনিস ভাই ঢাকার সমস্যার সমাধান করার কাজ শুরু করেছিলেন। তিনি উদাহরণ তৈরি করেছেন। তিনি তাঁর কাজ যেখানে রেখে গেছেন, আমি সেখান থেকে আমার কাজ শুরু করতে চাই।

তাবিথ আউয়ালতাবিথ আউয়ালআশা করছি ইসি নির্বাচন করতে পারবে

এটা একটা উপনির্বাচন। প্রথম নির্বাচনে যে কাজগুলো করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সেগুলো ধারাবাহিকভাবে করে যেতে আবারও প্রার্থী হতে চাই। আইনগত কারণে গতবার জোট আমাকে কেবল সমর্থন দিয়েছিল। এবার আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় মনোনয়নের অপেক্ষায় আছি। নির্বাচিত হলে দুই বছরের মধ্যে কী করতে পারব, এ বিষয়ে কোন বার্তাটা জনগণকে দেব, জনমত কীভাবে তৈরি করব; সেটা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আমাদের জন্য। কারণ, নির্বাচন আদৌ হবে কি না, সে ব্যাপারেও আস্থা হারিয়ে গেছে; আমাদেরও, জনগণেরও।

এর আগে ঢাকা সিটি নির্বাচন দুবার পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি উত্তর সিটির সঙ্গে নতুন ১৮টি ওয়ার্ড যুক্ত হওয়ার পর দুটি রিট আবেদন করা হয়েছিল। এগুলোর সুরাহা হয়েছে কি না, সে ব্যাপারে কিছু জানতে পারলাম না। আশা করব, সব প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সঠিক সময়ে নির্বাচন করতে পারবে।

গত নির্বাচনের সময় আমি কমিশনে অনেকগুলো অভিযোগ করেছিলাম। একটি অভিযোগও আমলে নেওয়া হয়নি; কোনো তদন্ত হয়নি। লিখিত অভিযোগের কোনো উত্তর আমি পাইনি।

মানছি যে নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও রংপুরে নির্বাচন অনেকটা সুষ্ঠু হয়েছে। কিন্তু সেখানেও বিরোধীদের অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়নি। এর মূল দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। এবারও আমরা যদি কোনো অভিযোগ আনি, সেগুলো তাদের আমলে নিতে হবে। এটা যদি তারা করে, তাহলে বুঝব তারা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটের ব্যাপারে আন্তরিক।

 জোনায়েদ সাকিজোনায়েদ সাকিআগের অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি চাই না

গত নির্বাচনে যে অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে আমরা গিয়েছি, যেখানে জনগণের ভোটের অধিকার ভীষণভাবে খর্ব হয়েছিল, মানুষ ভোট দিতে পারেনি। আগে থেকেই ব্যালট বাক্স ভরে ফেলা হয়েছিল, জাল ভোট দেওয়া হয়েছিল। কেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্স ভরার দৃশ্যও দেখা গেছে। বেলা ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে আমাদের সব পোলিং এজেন্টকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। এই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি আমরা চাই না।

আমরা চাই, নির্বাচন কমিশন জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করবে। জনগণ যাকে ভোট দেবে, সেই ভোট যথাযথভাবে গণনা করে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। ঢাকা নগর তো বটেই, সারা দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক যে অধিকার, তার জন্য এটা দরকার। সর্বোপরি দেশের অস্তিত্বের জন্যই একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা  অপরিহার্য।

ঢাকাকে বাঁচানো দরকার। দুই বড় দলের ক্ষমতাকেন্দ্রিক যে বিবদমান রাজনীতি, তার বাইরে এসে ঢাকার জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করা দরকার। ঢাকাকে রক্ষা করার কাজটিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দরকার।

ঢাকাবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করতে না পারলে, মানুষকে সম্পৃক্ত করতে না পারলে, ঢাকার সমস্যাগুলো সমাধান করা শেষ পর্যন্ত কঠিন হয়ে যাবে। ফলে ঢাকাবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য বিবদমান রাজনীতির বাইরে ঢাকাকে নিয়ে কাজ করার জন্য নেতৃত্ব দরকার। সেই জায়গা থেকেই আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি। মানুষের এগিয়ে আসাটাই এখন প্রধান ব্যাপার। আমরা বলছি, পরিবর্তন সম্ভব। আপনারা এগিয়ে আসুন।

শাফিন আহমেদশাফিন আহমেদসবার জন্য সমান সুযোগ থাকতে হবে

নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম এমন হতে হবে, যাতে সবার জন্য সমান প্রচারণার সুযোগ তৈরি হয়। একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুর ব্যবস্থা নির্বাচন কমিশনকে করতে হবে। প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

আমি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন হলেও এ সম্পর্কিত চিন্তাভাবনা আমার সব সময়ই ছিল। আর সেবামূলক নানা কার্যক্রমের সঙ্গেও আমার যুক্ততা অনেক দিনের। আগে সেটা শিল্পের মাধ্যমে হয়েছে। এখন হবে রাজনীতির মাধ্যমে। উত্তর ঢাকার বাসিন্দারা যদি আমার ওপর আস্থা রাখেন, আমি সেই আস্থার প্রতিদান দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

নির্বাচিত হলে আমার মেয়াদকাল খুব বেশি দিনের হবে না। তাই আমি অনেক বড় কোনো প্রকল্প কিংবা পরিকল্পনার কথা বলব। মানুষকে সেই স্বপ্নও দেখাব না। আমার লক্ষ্য হবে ডিএনসিসির চলমান যে প্রকল্পগুলো আছে সেগুলো সঠিক সময়ে, সুন্দরভাবে সম্পন্ন করা। ডিএনসিসি এলাকার সব কটি মাঠ ও পার্ক দখলমুক্ত করে সেগুলোকে বিনোদন ও খেলাধুলার উপযোগী করে তোলার বিষয়টি অগ্রাধিকার পাবে। এর সঙ্গে দখলমুক্ত ফুটপাত, হকার পুনর্বাসন, গণপরিবহনব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং প্রয়োজনে শিশু ও নারীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকার নাগরিকদের সাইকেল চালনায় উৎসাহ দেওয়ার জন্য আলাদা সাইকেল লেন তৈরির বিষয়টিও অগ্রাধিকার পাবে।

ভোটারদের উদ্দেশে আর যে বার্তাটি আমার দেওয়ার আছে, সেটা হচ্ছে ‘শাফিনের জয়, ঢাকার জয়’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*